বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) একদল আন্দোলনরত শিক্ষার্থী দাবি- দাওয়ার ব্যাপারে উপাচার্য অধ্যাপক ড. শুচিতা শরমিনের সঙ্গে দেখা করে কথা বলার জন্য চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন। শুক্রবার বিকেলে শিক্ষার্থীরা ভিসি ভবনের মেইন গেট ভেঙে ভিতরে ঢুকে পড়েন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারের সামনেই এ ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীরা বলছেন, আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের সুবিধা দেয়ার জন্যই সিন্ডিকেট সভা ডাকা হয়েছে। পরে তারা দশ দাবি আদায়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আলটিমেটাম দেন।জানা যায়, তারা ভিসির সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছেন এবং তাদের দাবি-দাওয়া নিয়ে বসে সেগুলোর যৌক্তিক কারণ জানতে চেয়েছেন। তবে উপাচার্য আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেখা করেননি। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর মারুফা আক্তার আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রক্টর রুমে আলোচনায় বসার অনুরোধ জানালেও নাকোচ করে আন্দোলন চালিয়ে যান তারা (শিক্ষার্থীরা)। কিছুক্ষণ পরে বিকেল চারটার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সাংবাদিক সম্মেলন করে তাদের দশটি দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলো হলো: মেয়াদ শেষ হওয়ায় রেজিস্ট্রারকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে অপসারণ করতে হবে। অভ্যন্তরীণ শিক্ষকদেরকে প্রতিনিধি করে সিন্ডিকেট সভা আহ্বায়ন করতে হবে। ছাত্র সংসদ নিয়ে আগামী ৭২ ঘন্টার মধ্যে রূপরেখা দিতে হবে, সিন্ডিকেটে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি রাখতে হবে ও সিন্ডিকেটের আলোচ্য বিষয়গুলো সাংবাদিকদের কাছে উন্মুক্ত করতে হবে। অবকাঠামো উন্নয়ন সম্পর্কে উপাচার্যের পদক্ষেপ শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থাপন করতে হবে। স্বৈরাচারের দোসরদের সঙ্গে সখ্যতার কারণ স্পষ্ট করে শিক্ষার্থীদের সামনে ক্ষমা চাইতে হবে। ছাত্র -আন্দোলনে বিরোধীতাকারী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যাবস্থা নিতে হবে। শিক্ষার্থীদের বিভাগ -উন্নয়ন ফি ও সেবা বঞ্চিত ফি এর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। ব্যাংকের আরেকটি শাখা খুলতে হবে এবং আরো জনবল নিয়োগসহ কার্যক্রম ডিজিটাইলেজশনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। ২২ দফার বাস্তবায়ন করতে হবে। ছাত্রলীগ কর্মীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ রফিক বলেন, আমরা কিছুদিন আগেও ভিসিবিরোধী আন্দোলন করেছিলাম কিন্তু ফলপ্রসু কিছু হয়নি এবং এখন আবার আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের বিশেষ সুবিধা দিতে আয়োজন করা গোপন সিন্ডিকেট সভা প্রতিহত করতে এবং আমাদের এই দশটি দাবি নিয়েই আমরা এখানে সমবেত হয়েছি। তিনি ভিসিকে উদ্দেশ্য করে আরো বলেন স্বৈরাচার শেখ হাসিনার চেয়েও বড় স্বৈরাচার আমাদের ক্যাম্পাসে এখন অবস্থান করছেন।
জানা যায়, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উপাচার্য একটি মাত্র এজেন্ডা দিয়ে অনেক সদস্যদের অনুপস্থিতিতে সিন্ডিকেট সভা চালিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চারজন প্রতিনিধির মধ্যে শুধুমাত্র উপাচার্য রয়েছেন সেখানে।
উল্লেখ্য, আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শুক্রবার বিকেল তিনটায় সিন্ডিকেট সভা আয়োজন করেছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শুচিতা শরমিন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল (বৃহস্পতিবার) থেকে ভিসিবিরোধী আন্দোলনে নামেন একদল শিক্ষার্থী। গতকাল তারা তালাবদ্ধ করেন উপাচার্যের কার্যালয়ের কলাপ্সিবল গেট ও বাসভবন।