সিলেটের রসময় উচ্চ বিদ্যালয়। পুরোনো তিনতলা ভবন ভেঙে ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দে শুরু হয় ৬ তলা ভবনের কাজ। এ পর্যন্ত ৫০ ভাগ কাজও শেষ হয়নি ভবনটির। অথচ বেশিরভাগ বিলই তুলে নিয়ে গেছে ঠিকাদার। আর ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভুত্থানে হাসিনা সরকারের পতনের পর এখন ঠিকাদারও পলাতক। কারণ পলাতক ঠিকাদাররা পতিত আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।এমন দেড়শর বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণকাজ শেষ না করে পালিয়েছেন ঠিকাদার। অভিযোগ রয়েছে, দুর্নীতিবাজ প্রকৌশলীদের সঙ্গে যোগসাজশে তোলা হয়েছে বিল।
আর নির্মাণ কাজ নিয়েও তৈরি হয়েছে সংকট। শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, সংকট সমাধানের জন্য কাজ চলছে।
সিলেট রসময় উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল আলম বলেন, ‘বড় বড় ক্লাসগুলোর মধ্যে আমরা পার্টিশন দিয়ে ক্লাস চালাচ্ছি। ২০২০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে কাজ শুরু হয়ে আজ ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ। এখনও আমরা ভবন পাইনি। জানিনা কবে নির্মাণকাজ সমাপ্ত হবে।’
একই অবস্থা দক্ষিণ সুরমার লালাবাজার ফাজিল মাদরাসা ভবনের। ৪ তলা ভবনের মাত্র ৩ তলা ঢালাই কাজ শেষ করেই পালিয়েছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। সিলেটের অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাজই বন্ধ।
শিক্ষা প্রকৌশলের তথ্য অনুযায়ী, দেড় শতাধিক ঠিকাদার পলাতক রয়েছে। যারা পতিত আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর বলছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে চিঠি দেওয়া হচ্ছে। অনেক প্রতিষ্ঠান কাজও শুরু করেছে।
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী আলতাফ হোসেন বলেন, ‘খানে উন্নয়ন কাজ অচল অবস্থায় আছে, সেগুলোকে চিহ্নিত করে আমরা বিকল্প উপায়ে কাজ সম্পন্ন করার কথা ভাবছি।’কাজের আগেই বিল দেওয়া কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার কথা জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘এই সমস্যা শুধু শিক্ষা মন্ত্রণালয়েই নয়। আমি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়েও এই ধরনের স্থবিরতা আছে এবং দুর্নীতির কারণে এগুলো (নির্মাণকাজ) বন্ধ হয়ে গেছে।’উল্লেখ্য, ৫ আগস্টের পর অনিয়মের দায়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের ৩ জন প্রকৌশলীকে ওএসডি করেছে মন্ত্রণালয়।