1. [email protected] : thebanglatribune :
  2. [email protected] : James Rollner : James Rollner
পরিবেশ ও প্রকৃতির সাথে বৈরিতা নয় - The Bangla Tribune
এপ্রিল ১৭, ২০২৪ | ১১:০৩ অপরাহ্ণ

পরিবেশ ও প্রকৃতির সাথে বৈরিতা নয়

  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, মার্চ ২৮, ২০২৪

পরিবেশ সম্পর্কে আমাদের ভাবনা পরিষ্কার নয়। মানুষের জীবন-যাপনের সাথে সুন্দর পরিবেশের যে একটা যোগসূত্র রয়েছে, সেটা আমরা অনুধাবন করতে পারছিনা । পরিবেশ যে আমাদের সবার জন্য অমূল্য সম্পদ সেই চেতনাবোধ থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন। যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলছি, মাটি ও পাহাড় কাটছি অপরিকল্পিতভাবে, অপ্রয়োজনে উচ্চস্বরে হর্ন বাজিয়ে যাচ্ছি, নির্বিচারে নদী-দীঘি-পুকুরসহ জলাশয়গুলিকে দূষিত ও ভরাট করছি, রাসায়নিক সার প্রয়োগের ফলে মাটির উর্বরতা নষ্ট করছি, প্রত্নতাত্বিক নিদর্শনসমূহ বিনষ্ট করছি, সবচেয়ে মারাত্মক ক্ষতিটা বনাঞ্চলগুলিকে ধ্বংস করছি, নদীতে অবাধে বর্জ্য-পলিথিন-প্লাস্টিক ফেলছি, উপকূলের সবুজ বেষ্টনী নষ্ট করছি,অপরিকল্পিতভাবে বাড়ি, ইটের ভাটাসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করছি, অনেক শিল্পের বর্জ্য সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা করছি না, জীববৈচিত্র্য নষ্ট করছি।
এভাবে প্রতিনিয়তই পরিবেশ ও প্রকৃতির সাথে আমরা অপরাধ করে চলেছি। আমরা ভুলেই গেছি প্রকৃতি কখনো ক্ষমা করেনা। আজকের যে বৈশ্বিক উষ্ণায়ণ সেটা যে আমাদের দিনের পরদিন অপরাধের ফলাফল তা আমরা ভাবতেই পারিনা। বাতাসে সীসা র মত মারাত্মক ক্ষতিকর ধাতু মিশে আমাদের প্রজন্মকে বিকলাঙ্গ বানাচ্ছে। আমরাই পরিবেশ ও সম্পদ ক্রমাগতভাবে বিনষ্ট করে চলেছি। পরিবেশের সংরক্ষণ, পরিবেশের মানোন্নয়ন, প্রাকৃতিক সম্পদ, জীববৈচিত্র্য, জলাভূমি, বন ও বন্যপ্রাণীর সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা বিধান করা রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব। পাশাপাশি আমাদের সাধারণ জনগণকে প্রকৃতির জন্য নির্মল পরিবেশ তৈরি করা অত্যাবশ্যকীয়।
ছোটবেলায় নদীর পাড়ে গিয়ে মনজুড়িয়ে যেত, পুকুরে দলবেঁধে সাঁতার কেটে মনে উৎফুল্ল তাও প্রাণবন্ততা কাজ করত, সবুজ বনের মাঝে হারিয়ে যেত মন-প্রাণ, মাঠের পরমাঠ ধানক্ষেত দেখে বুক উল্লাসে ভরে উঠত, অনেক বড় ও পুরোনো গাছের ছায়ায় কত রকমের নির্ভেজাল আনন্দ নিতাম,কত রকমের মাছ, নানা রকমের ফল খাওয়া, নিজের হাতে ফুল ও ফসলের বাগান গড়ে তোলা, কত রকমের জীবজন্তু দেখে আনন্দ পাওয়া, পরিবেশ ও প্রকৃতির সাথে আমাদের কি মেলবন্দন ছিল!আজ সেই পরিবেশ ও প্রকৃতি কোথায়?
আমরা পরিবেশের স্বাভাবিক চরিত্রটাই নষ্ট করে ফেলছি। অদ্ভুতভাবে প্রকৃতি ও পরিবেশের মূল্যবান সম্পদগুলিকে বিনষ্ট করে চলছি।আর আজ আমরা এখন হুমকির মুখে। আমরা কত আলোচনা করছি,র্যা লি করছি সমাবেশ করছি,প্রতিবাদ ও আন্দোলন করছি আর ও কত কী! কিন্তু চরম অপরাধী, লোভী ও স্বার্থান্ধ সেই কুৎসিত রুচিবোধসম্পন্ন মানুষগুলো সবসময় পরিবেশের মৌলিক চাহিদাগুলো নষ্ট করেই যাচ্ছে। কৃত্রিম জীবন এখন নগরকে ছাড়িয়ে গ্রামে ও পৌঁছে গেছে। সুস্থজীবন এখন সবজায়গায় বিপন্ন। আমরা নিজেরাই প্রকৃতিকে আমাদের প্রধান শত্রুতে পরিণত করছি। আধুনিক সভ্যতার নামে আদতে প্রকৃতিকে আমাদের শত্রু বানিয়ে ফেলছি। বাস্তুসংস্থানের (ইকোলজি) ভারসাম্য নষ্ট করে মানব সভ্যতা ধ্বংসের পথে অগ্রসর হচ্ছে সেটা অনুধাবন করতে পারছি না।ফলে পাহাড়-বনাঞ্চলসহ প্রাকৃতিক সম্পদ ধ্বংস, ভূমি-নদী-জলাশয়, বৃক্ষ ও প্রাণী নিধন অতিমাত্রায় পরিবেশকে ধ্বংস করছে।
দেশের পরিবেশকেন্দ্রিক ভাবনাগুলিকে বড় পরিসরে বিস্তৃত করে তুলতে হবে। বিশ্ব-পরিসরের পরিবেশকেন্দ্রিক সমস্যা নিয়ে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। সমস্যা সমাধানের উদ্যোগগুলোর সাথে সংযুক্ত তাও সম্পৃক্ততা গড়ে তুলতে হবে।প্রকৃতির সাথে আমাদের বন্ধুত্ব গড়ে তুলতে হবে। সামাজিক আন্দোলনও ঐক্য গড়তে হবে। ঐক্যে নেতৃত্ব দেবার জন্য এগিয়ে আসতে হবে তরুণ সমাজকেই। বৃহত্তর একটি ঐক্য গড়ে তোলা খুবই জরুরি। ঐক্যই আমাদেরকে ধীরে ধীরে সামাজিক ও পরিবেশকেন্দ্রিক সুচিন্তা এবং পরিবেশসম্মত রাজনৈতিক অঙ্গীকার এনে দেবে। অরণ্যে বিকশিত একটা দেশ গড়ে তুলতে পারি। আমাদের গ্রামগুলিকে, ছোট ও বড় শহরগুলিকে পরিকল্পিত এবং পরিবেশ সমুন্নতভাবে গড়ে তুলতে পারি। সকল অবৈধ স্থাপনা ও কার্যক্রমের বিরুদ্ধে সরব প্রতিবাদ গড়ে তুলতে পারি। আন্তরিক ও বলিষ্ঠভাবে উদ্যোগ নিলে শহরগুলিকে যানজট ও দূষণ নিয়ন্ত্রিত বসবাসের উপযুক্ত শহর হিসেবে প্রতিষ্ঠা গড়ে তোলা সম্ভব। নদী রক্ষার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়ে নদীগুলোকে ঝুঁকিও দূষণমুক্ত করা দরকার।বৈচিত্র্যপূর্ণ উপকূল বনায়ন ও পরিবেশ সমুন্নত জীবপ্রকৃতি গড়ে তুলতে পারি। আমাদের এইটুকু মূল্যবোধ জেগে উঠা দরকার যে প্রকৃতির কোন ক্ষতি করে, পরিবেশ নষ্ট করে স্বাভাবিক জীবন-যাপন করা সম্ভবনয়। মানুষের আচরণ ভঙ্গের কারণে প্রকৃতি বিরূপ আচরণ করে। হয়ে উঠে বিধ্বংসী। তাই পরিবেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক তৈরি করতে হবে। আসুন আজকের দিনে শপথ করি,পরিবেশ বিনষ্ট করবো না। প্রকৃতির বন্ধু হয়ে প্রকৃতি ও পরিবেশের সাথে একত্বটা প্রকাশ করি। তাহলে আগামী প্রজন্ম বেড়ে উঠবে নির্মল পরিবেশের মাঝে সাথে সাথে পরিবেশ আমাদের জীবনকে সমৃদ্ধ করবে।
আসুন সবাই গাছ লাগাই। পরিবেশ পরিষ্কার রাখি।
লেখকঃ মোঃ মাসুম বিল্লাহ
সহকারী অধ্যাপক,
কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগ,
আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি–বাংলাদেশ(এআইইউবি)

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2020