1. [email protected] : thebanglatribune :
  2. [email protected] : James Rollner : James Rollner
হিজরি রজব মাসের তাৎপর্য ও কিছু কথা। - The Bangla Tribune
এপ্রিল ১৭, ২০২৪ | ৮:৪৫ অপরাহ্ণ

হিজরি রজব মাসের তাৎপর্য ও কিছু কথা।

  • প্রকাশের সময় : সোমবার, জানুয়ারি ১৫, ২০২৪

চলছে হিজরির রজব মাস। এ মাসের (১৮ ফেব্রুয়ারি শনিবার) ২৬ রজব দিনগত রাতে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হবে পবিত্র শবে মেরাজ। ‘রজব’ শব্দের অর্থ সম্মানিত। সুতরাং রজব মাস অত্যন্ত সম্মানিত ও ফজিলতপূর্ণ। জাহেলিয়ার যুগে আরবরা এ মাসকে অন্য মাসের তুলনায় অধিক সম্মান করতেন। এজন্য তারা এ মাসের নাম রেখেছিল ‘রজব’। ইসলাম আগমণের পর বছরের ১২ মাসের মধ্য থেকে রজবসহ ৪ মাসকে ‘আশহুরে হুরুম’ সম্মানিত মাস ঘোষণা করা হয়। আল কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টির দিন থেকেই আল্লাহর কাছে গণনায় মাস ১২টি, তার মধ্যে ৪টি (সম্মানিত হওয়ার কারণে) নিষিদ্ধ মাস, এটাই সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান। (সুরা তওবা : আয়াত ৩৬)।
মর্যাদার এ মাসটিতে মহান আল্লাহতায়ালা যাবতীয় যুদ্ধবিগ্রহ, হানাহানি ও রক্তপাত নিষিদ্ধ করে দিয়েছেন। রাসুল(সা)বলেন, ‘আল্লাহ তায়ালার আসমান-জমিন সৃষ্টি করার দিন থেকেই বারো মাসে বছর হয়। এর মধ্যে চারটি মাস সম্মানিত; তিনটি একাধারে জিলকদ, জিলহজ ও মহররম এবং চতুর্থটি হলো ‘রজব মুদার’, যা জমাদিউল আখিরা ও শাবানের মধ্যবর্তী মাস।’ (মুসলিম)
মর্যাদার এ মাসটি মুমিন মুসলমানের ইবাদতের মাস। বরকত লাভের মাস। কেননা রাসুল(সা) কোমরে কাপড়বেঁধে এ মাসের ইবাদত-বন্দেগিতে নিয়োজিত হতেন। রোজা রাখতেন এবং বেশি বেশি বরকত পেতে দোয়া পড়তেন; তার উম্মতকেও দোয়া পড়তে বলতেন। উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি রাজাবা ওয়া শাবানা ওয়া বাল্লিগনা রামাদান।’ অর্থ : ‘হে আল্লাহ! রজব ও শাবান মাস আমাদের জন্য বরকতময় করুন; রমজান মাস আমাদের নসিব করুন।’ (বোখারি ও মুসলিম)
ইসলামের দৃষ্টিতে রজবের বিশেষ তাৎপর্য ও গুরুত্ব রয়েছে। মুসলিম মনীষীরা বলেছেন, এসব মাসে ইবাদতের প্রতি যত্নবান হলে বাকি মাসগুলোতে ইবাদতের তাওফিক হয়। আর গুনাহ থেকে বিরত থাকতে পারলে অন্যান্য মাসেও গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা সহজ হয়। (আহকামুল কোরআন, লিল জাসসাস : ৩/১১১; মাআরিফুল কোরআন : ৪/৩৭২। আল্লাহতায়ালা বিশেষ কিছু রাত-দিনে বান্দাদের দোয়া ব্যাপকভাবে কবুল করেন। এসব রাত-দিনের মধ্যে পাঁচটি রাত অন্যতম। আবদুল্লাহ ওমর (রা.) বলেন, এমন পাঁচটি রাত আছে যেগুলোতে আল্লাহতায়ালা বান্দার দোয়া ফিরিয়ে দেন না। জুমার রাত, রজবের প্রথম রাত, শাবানের ১৫ তারিখের রাত ও দুই ঈদের রাত।’ (সুনানে বায়হাকি, হাদিস : ৬০৮৭; মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক, হাদিস : ৭৯২৭)। কায়েস ইবনে উবাদা (রা.) বলেন, ‘রজবের দশম তারিখে মহান আল্লাহ বান্দার দোয়া কবুল করেন।’ (তাফসিরে কুরতুবি : ৯/৩৩২)
একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা সংঘটিত হয়েছে এ মাসে। এতে উম্মাহর জন্য অনেক শিক্ষা রয়েছে। এ মাসের ২৭তম রাতে রাব্বুল আলামিন তার প্রিয় হাবিব রাসুলে কারিম (সা.)-কে দাওয়াত করে এই জগৎ থেকে ঊর্ধ্বজগতে নিয়ে গিয়েছিলেন। তার প্রতি বিশেষ মর্যাদা ও সম্মান প্রদর্শন করেছিলেন। নুহ (আ.)-এর জাতিকে আল্লাহ মহাপ্লাবনের মাধ্যমে ধ্বংস করেছেন। আর নুহ (আ.)-কে তার নির্মিত বিশাল জাহাজের মাধ্যমে রক্ষা করেছেন। তাফসিরে তাবারি ও বগভিতে আছে, নুহ (আ.) রজবের ১০ তারিখে কিস্তিতে আরোহণ করেছিলেন। দীর্ঘ ছয় মাস পর্যন্ত ওই কিস্তি তুফানের মধ্যেই চলছিল। পরিশেষে ১০ মুহররম আশুরার দিন ইরাকের জুদি পর্বতে জাহাজটি অবতরণ করে। (মাআরেফুল কোরআন, পৃষ্ঠা : ৬৩২)
সমাজে প্রচলিত আছে, ২৭ রজবে রোজা রাখা অনেক ফজিলত। অনেকের বিশ্বাস, এ দিনের রোজার ফজিলত এক হাজার রোজার সমান। অথচ এ ব্যাপারে সহিহ ও গ্রহণযোগ্য কোনো বর্ণনা নেই। আল্লামা ইবনুল জাওজি, হাফেজ জাহাবি, তাহের পাটনি, আবদুল হাই লৌখনবি (রহ.) প্রমুখ প্রখ্যাত হাদিসবিশারদ এ রোজার ফজিলতকে ভিত্তিহীন ও বানোয়াট বলেছেন। (কিতাবুল মাওদুয়াত, ইবনুল জাওজি : ২/২০৮; তালখিসুল মাওদুয়াত, পৃষ্ঠা : ২০৯; তাজকিরাতুল মাওজুয়াত, পৃষ্ঠা : ১১৬; আল আসারুল মারুফা, পৃষ্ঠা : ৫৮)
ইসলামপূর্ব জাহেলি যুগে রজব মাসে মুশরিকদের বিভিন্ন প্রথা প্রচলিত ছিল। তারা দেবতা-প্রতিমার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু জবাই করত। এটাকে ‘আতিরা’ বলা হতো। রাসুল (সা.) এই শিরকি প্রথা দূর করেছেন। তিনি ঘোষণা করেছেন, “ইসলামে ‘ফারা’ (উট বা বকরির প্রথম বাচ্চা প্রতিমার উদ্দেশ্যে) জবাই করার কোনো বিধান নেই এবং ‘আতিরা’ও নেই।” অর্থাৎ রজব মাসে প্রতিমার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু জবাই করার প্রথা নেই।’ (বুখারি, হাদিস : ২/৮২২)
সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, রজব মাসের মর্যাদা, ফজিলত ও আমলের প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখা। হাদিসের ওপর যথাযথ আমল করা। রমজানের পরিপূর্ণ ইবাদতের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা। আল্লাহ তায়ালা আমাদের রজব ও শাবান মাসে অধিক পরিমাণে ইবাদতে মশগুল থেকে রমজানের প্রস্তুতি গ্রহণ করার তৌফিক দান করুন। আমিন!

লেখকঃ মোঃ কামাল উদ্দিন, লেকচারার, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, আতাকরা কলেজ, কুমিল্লা।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2020