1. [email protected] : thebanglatribune :
কুরআন তিলাওয়াত একটি মহান আমল - The Bangla Tribune
ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৪ | ৪:১৮ অপরাহ্ণ

কুরআন তিলাওয়াত একটি মহান আমল

  • প্রকাশের সময় : শনিবার, আগস্ট ৫, ২০২৩

কুরআন মাজীদ হলো হেদায়েত গ্রন্থ। হযরত মুহাম্মাদ মুস্তফা (সা.)-এর পর থেকে কিয়ামত পর্যন্ত আগত সকল যুগের, সকল দেশের, সকল ভাষা, বর্ণ, গোত্র, পরিবেশ ও স্বভাবের মানুষের জন্য কুরআন হেদায়েত ও পথপ্রদর্শক। সেজন্য কুরআন নবী (সা.)-এর শ্রেষ্ঠ মুজেজা।

এই কুরআনে শুধু যে বিধিবিধান বর্ণিত হয়েছে এমন নয়। পূর্ববর্তী নবী-রাসূলদের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠীর কর্ম ও কর্মফলের বিবরণ এসেছে। ভবিষ্যৎ ও পরকাল জীবনের নানা অবস্থা বিবৃত হয়েছে। বিশ্লেষিত হয়েছে পাপ-পুণ্যের ও ভালো-মন্দের প্রকৃত পরিণাম। ফলে যে কোনো মানুষ চাইলেই কুরআনের আয়নায় নিজেকে দেখতে পারে। নিজের সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে কুরআন পড়লে খুঁজে পায় জীবনের আসল রূপ ও ভবিষ্যৎ পরিণতির আভাস।

কুরআন মাজীদের পরিচয় এতটুকুতেই সীমাবদ্ধ নয়। মূলত কুরআন আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কালাম। আসমানী কিতাব। এমন এক কিতাব, যা ছাড়া দুনিয়া ও আখেরাতে সফলতা লাভ করা সম্ভব নয়। এই কুরআনের সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করার বিভিন্ন দিক রয়েছে। কুরআন তিলাওয়াত করা। অন্যের তিলাওয়াত শোনা। তিলাওয়াত ও তাফসির শেখা। অন্যকে শিক্ষা দেওয়া। কুরআনের আয়াত, ভাব ও মর্ম নিয়ে চিন্তা-ফিকির করা ইত্যাদি। তন্মধ্যে সবচে সহজ ও গুরুত্বপূর্ণ দিকটি হলো তিলাওয়াত।
কুরআন নাজিল হওয়ার পর সর্বপ্রথম নবী (সা.) তিলাওয়াত করেছেন। তিনি সাহাবায়ে কেরামকে তিলাওয়াত করে শুনিয়েছেন এবং শিখিয়েছেন। তাই কুরআন মাজীদের প্রথম শিক্ষক তিনিই। তখন থেকে আজ পর্যন্ত যত মনীষী এই কুরআন শিক্ষাদানে নিয়োজিত হয়েছেন তারা মূলত নবী (সা.)-এরই ওয়ারিস ও উত্তরাধিকারী। তাদের শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করে নবী (সা.) ইরশাদ করেছেন : তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি সে, যে কুরআন মাজীদ শেখে এবং শেখায়। (সহিহ বুখারী : ৫০২৭)। কুরআন নাজিল হওয়ার পর থেকে সর্বযুগে সকল মুমিনের গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল ছিল কুরআন তিলাওয়াত। নামাজে এবং নামাজের বাইরে। তাতে স্বাভাবিক ও নিয়মিত তিলাওয়াতের পাশাপাশি বিস্ময়কর তিলাওয়াতেরও অনেক ঘটনা পাওয়া যায়। আমাদের নিকট অতীতেও পাওয়া যায় নামাজের এক রাকাতে পুরো কুরআন মাজীদ খতম করার ঘটনা। একরাতে দুই খতম, তিন খতম তিলাওয়াতের ঘটনাও আছে বুযুর্গদের জীবনীতে।
তবে সেটা তাঁদের কোরামতই বটে। অন্যথা বছরের দীর্ঘ রাতগুলোতেও আর কয় ঘণ্টা সময়? এই সময়ে দুই-তিন খতম তিলাওয়াত করাÑ বলা যায় অসম্ভব। উপরন্তু ধীরে ধীরে, স্পষ্ট উচ্চারণে ও সুমধুর স্বরে তিলাওয়াতের প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে হাদিসে। সেজন্য সাহাবায়ে কেরামের অনেকেই তিন দিনে এক খতম তিলাওয়াত করতেন। অনেকে সাত দিনে। অনেকে একমাসে। বুযুর্গদের অনেকে তিলাওয়াত করতেন চাঁদের তারিখ হিসাব করে। মাসের প্রথম দিন প্রথম পারা, শেষদিন শেষ পারা।
আসলে কুরআন তিলাওয়াতের স্বাদ যাঁরা পেয়ে যান তাঁদের তিলাওয়াত চলতে থাকে সবসময়। তিলাওয়াত ছাড়া একটি দিন পার করা তাঁদের জন্য পানাহার বিহীন দিন পার করার চেয়েও কঠিন।
সাধারণ নিয়মে কুরআন তিলাওয়াতের সাথে সাথে বিশেষ কিছু সূরা ও আয়াত দৈনিক বা বিশেষ সময়ে তিলাওয়াতের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে হাদিসে। সেজন্য ওই সময়ে ওই সূরা বা আয়াত তিলাওয়াতে বিশেষ ফজিলতের কথাও বর্ণিত হয়েছে। এমন দুয়েকটি হাদিস নিম্নে উল্লেখ করা হলো। সাহাবি আবু মাসউদ আনসারী (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) ইরশাদ করেন : যে ব্যক্তি রাতে সূরা বাকারার শেষ দু’টি আয়াত পড়বে তার জন্য তা (রাতের আমল হিসেবে এবং সকল অনিষ্ট থেকে রক্ষা পাওয়ার ক্ষেত্রে) যথেষ্ট হবে। (সহিহ বুখারী : ৫০০৯)।
আবু সাঈদ খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) একদিন সাহাবায়ে কেরামকে লক্ষ্য করে বললেন : তোমাদের কেউ কি রাতের বেলা কুরআন মাজীদের এক তৃতীয়াংশ তিলাওয়াত করতে পারবে? বিষয়টি তাঁদের কাছে কঠিন মনে হলো। তাঁরা বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাদের কে তা পারবে? তখন তিনি বললেন : সূরা ইখলাস (তিলাওয়াত) কুরআন মাজীদের এক তৃতীয়াংশ (তিলাওয়াতের সমান)। (সহিহ বুখারী : ৫০১৫)।
লেখকঃ কলেজের অধ্যাপক

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2020