1. [email protected] : thebanglatribune :
  2. [email protected] : James Rollner : James Rollner
তাওবা ও ইস্তিগফার আল্লাহ তাআলার ক্ষমা ও দয়া লাভে সাহায্য করে - The Bangla Tribune
এপ্রিল ১৭, ২০২৪ | ১০:১৯ অপরাহ্ণ

তাওবা ও ইস্তিগফার আল্লাহ তাআলার ক্ষমা ও দয়া লাভে সাহায্য করে

  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, মে ২, ২০২৩

তাওবা ও ইস্তিগফার মুমিন ও মুত্তাকী বান্দাদের এক বিশেষ গুণ। মানুষকে আল্লাহ তাআলা তাঁর ইবাদতবন্দেগী ও তাঁর আদেশনিষেধ মেনে চলার জন্য সৃষ্টি করেছেন। কিন্তু মানুষ যেহেতু শয়তানের প্ররোচনায় পড়ে  জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে  আল্লাহ তাআলার আদেশ-নিষেধ লঙ্ঘন করে বসেআল্লাহ তাআলার মরজি মোতাবেক চলার ক্ষেত্রে ভুল করে থাকেতাই আল্লাহ তাআলা তার সে ভুল বা গুনাহ থেকে মুক্তিদানের  জন্য তাওবা ও ইস্তিগফারের ব্যবস্থা রেখেছেন। এই তাওবা ও ইস্তিগফার একজন মুমিনকে দান করে নিষ্পাপ ও নিষ্কলুষ জীবন। মুমিনকে সর্বদা গুনাহমুক্ত জীবনের প্রতি করে অনুপ্রাণিত। মুমিনকে নিয়ে যায় ঈমান ও আমলের ক্ষেত্রে উন্নতি ও মর্যাদার সুউচ্চ শিখরে।

তাই তাওবা ও ইস্তিগফার মুমিনের জীবনের এক অপরিহার্য বিষয়। তাকওয়াপূর্ণ ও গুনাহমুক্ত জীবন লাভ করতে যা একান্ত জরুরি। আল্লাহ তাআলা কুরআন মাজীদে মুত্তাকীদের গুণাবলির বর্ণনা দিয়ে বলেন

وَ الَّذِیْنَ اِذَا فَعَلُوْا فَاحِشَةً اَوْ ظَلَمُوْۤا اَنْفُسَهُمْ ذَكَرُوا اللهَ فَاسْتَغْفَرُوا لِذُنُوْبِهِمْ  وَ مَنْ یَّغْفِرُ الذُّنُوْبَ اِلَّا اللهُ  وَ لَمْ یُصِرُّوْا عَلٰی مَا فَعَلُوْا وَ هُمْ یَعْلَمُوْنَ.

এবং তারা সেই সকল লোকযারা কখনও কোনো অশ্লীল কাজ করে ফেললে বা (অন্য কোনোভাবে) নিজেদের প্রতি যুলুম করলে সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং তার ফলে নিজেদের গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে— আর আল্লাহ ছাড়া কেইবা আছেযে গুনাহ ক্ষমা করতে পারে। আর তারা জেনেশুনে তাদের কৃতকর্মে অবিচল থাকে না। সূরা আলে ইমরান (০৩) : ১৩৫

নবীরাসূলগণ নিজেরা যেমন আপন রবের কাছে তাওবা ও ইস্তিগফার করেছেনউম্মতকেও তাওবা ও ইস্তিগফার করতে আদেশ করেছেন। তাওবাইস্তিগফার শিক্ষা দিয়েছেন। যদিও নবীরাসূলগণের তাওবাইস্তিগফার ও উম্মতের তাওবা ইস্তিগফারের মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। কারণ নবীরাসূলগণ মাসূম ও নিষ্পাপ। তাঁদেরকে আল্লাহ গুনাহ থেকে রক্ষা করেন। কিন্তু তাঁদের উম্মত তো মাসূম ও নিষ্পাপ নয়। তাই নবীগণের তাওবা ও ইস্তিগফার হয়ে থাকে কেবলমাত্র নিজেদের মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য। আর উম্মতের তাওবা ও ইস্তিগফার তো কখনো নিজেদের গুনাহের ক্ষমার জন্যআবার কখনো নিজেদের মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য হয়ে থাকে।

নবীগণও আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কাছে তাওবা ও ইস্তিগফার করেছেন। তাদের তাওবা ও ইস্তিগফারের ঘটনা ও ভাষা কুরআন মাজীদে বিবৃত হয়েছে। আমরা এখানে কুরআন থেকে কয়েকজন নবীর তাওবা ও ইস্তিগফারের বর্ণনা তুলে ধরছি। হযরত আদম আ.এর বক্তব্যে তাওবা ও ইস্তিগফার

رَبَّنَا ظَلَمْنَاۤ اَنْفُسَنَا  وَ اِنْ لَّمْ تَغْفِرْ لَنَا وَ تَرْحَمْنَا لَنَكُوْنَنَّ مِنَ الْخٰسِرِیْنَ.

হে আমাদের রব! আমরা আমাদের নিজেদের প্রতি যুলুম করেছি। যদি আপনি আমাদেরকে ক্ষমা না করেন  এবং আমাদের প্রতি দয়া না করেন তবে আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তভুর্ক্ত হয়ে যাব। Ñসূরা আরাফ (০৭) : ২১. হযরত নূহ আ.এর বক্তব্যে তাওবা ও ইস্তিগফার

رَبِّ اغْفِرْ لِیْ وَ لِوَالِدَیَّ وَ لِمَنْ دَخَلَ بَیْتِیَ مُؤْمِنًا وَّ لِلْمُؤْمِنِیْنَ وَ الْمُؤْمِنٰتِ ؕ وَ لَا تَزِدِ الظّٰلِمِیْنَ اِلَّا تَبَارًا.

হে আমার রব! আপনি আমাকে আমার পিতামাতাকে এবং আমার ঘরে যারা ঈমানের সঙ্গে প্রবেশ করেছে এবং মুমিন নরনারীদেরকে ক্ষমা করুন। আপনি যালেমদেরকে ধ্বংসই বৃদ্ধি করুন। সূরা নূহ (৭১) : ২২ হযরত মূসা আ.এর বক্তব্যে তাওবা ও ইস্তিগফার

رَبِّ اِنِّیْ ظَلَمْتُ نَفْسِیْ فَاغْفِرْ لِیْ فَغَفَرَ لَهٗ  اِنَّهٗ هُوَ الْغَفُوْرُ الرَّحِیْمُ.

হে আমার রব! নিশ্চয়ই আমি আমার প্রতি যুলুম করেছি। তাই আপনি আমাকে ক্ষমা করুন। তাই তিনি তাকে ক্ষমা করলেন। নিশ্চয়ই তিনি বড় ক্ষমাশীল ও অতি দয়ালু। সূরা কাসাস (২৮) : ২৪ হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামএর বক্তব্যে তাওবা ও ইস্তিগফার

عن الأغر بن يسار المزني رضي الله عنه قال: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: يَا أَيُّهَا النَّاسُ تُوبُوا إِلَى اللهِ، فَإِنِّي أَتُوبُ فِي الْيَوْمِ إِلَيْهِ مِائَةَ مَرَّةٍ.

হযরত আগার ইবনে ইয়াসার আলমুযানী রা. বলেনরাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনহে লোকসকল! তোমরা আল্লাহর কাছে তাওবা কর। কেননা আমি দিনে একশত বার তাওবা করি। সহীহ মুসলিমহাদীস ২৭০২

এখানে এ কথা অবশ্যই মনে রাখতে হবে যেনবী ও রাসূলগণ আল্লাহ তাআলার নির্বাচিত বান্দা। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত তাঁদের গোটা জীবন আল্লাহ তাআলার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। তাই তারা যাবতীয় গুনাহ থেকে দূরে থেকে জীবন যাপন করেন। তাদের থেকে কখনও সগীরা বা কবীরা গুনাহ সংঘটিত হয়নি। এজন্যই আহলুস্ সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের সর্ববাদী আকীদা হলনবী ও রাসূলগণ মাসূম ও নিষ্পাপ। তাই আম্বিয়া আলাইহিমুস্ সালামের মুখে তাওবা ও ইস্তিগফার উচ্চারিত হওয়ার অর্থ কখনোই এ নয় যেতারা তাদের গুনাহের জন্য বা নবুওতের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে ত্রুটিবিচ্যুতির জন্য তারা তাওবা ও ইস্তিগফার করে থাকেনবরং তারা তো তাওবা ও ইস্তিগফার করেন আল্লাহ তাআলার কাছে তাঁদের মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য বা তাঁদের থেকে অধিক উত্তম কাজের তুলনায় কম উত্তম কাজ সংঘটিত হওয়ার কারণে এবং সঙ্গে সঙ্গে উম্মতকে তাওবা ও ইস্তিগফার শিক্ষা দেওয়ার জন্য। হযরত সালেহ আ. কতৃর্ক তাঁর উম্মতকে তাওবা ও ইস্তিগফার শিক্ষাদান :

وَ اِلٰی ثَمُوْدَ اَخَاهُمْ صٰلِحًا ۘ قَالَ یٰقَوْمِ اعْبُدُوا اللهَ مَا لَكُمْ مِّنْ اِلٰهٍ غَیْرُهٗ  هُوَ اَنْشَاَكُمْ مِّنَ الْاَرْضِ وَ اسْتَعْمَرَكُمْ فِیْهَا فَاسْتَغْفِرُوْهُ ثُمَّ تُوْبُوْۤا اِلَیْهِ  اِنَّ رَبِّیْ قَرِیْبٌ مُّجِیْبٌ.

আমি ছামুদ জাতির কাছে সালেহকে প্রেরণ করেছি। তিনি বললেনহে আমার সম্প্রদায় তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর। তিনি ছাড়া তোমাদের আর কোনো মাবুদ নেই। তিনিই তোমাদেরকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন। এবং তোমাদেরকে তাতে বসবাস করিয়েছেন। তাই তোমরা তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর। অতঃপর তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তন কর। নিশ্চয়ই আমার রব অতি নিকটে এবং দুআ কবুলকারী। সূরা হুদ (১১) : ৬১

এভাবে সকল নবী উম্মতকে আল্লাহর দরবারে নিজেদের ভুলত্রুটি ও গুনাহের জন্য তাওবা ও ইস্তিগফার করার আদেশ করেছেন এবং নিজেদের জীবনকে শিরকের গুনাহ থেকে শুরু করে সকল গুনাহ থেকে পবিত্র করার জন্য তাওবা ও ইস্তিগফার শিক্ষা দিয়েছেন। তাই দ্বীন ও শরীয়তে তাওবা ও ইস্তিগফারের গুরুত্ব অপরিসীম।  তাওবা ও ইস্তিগফার মুমিনকে আল্লাহ তাআলার ক্ষমা ও দয়া লাভে সাহায্য করে

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন

وَ اسْتَغْفِرُوا اللهَ   اِنَّ اللهَ غَفُوْرٌ رَّحِیْمٌ.

আর তোমরা আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ বড় ক্ষমাশীল ও অতি দয়ালু। সূরা বাকারা (০২) : ১৯৯

তিনি আরও বলেন

وَ اسْتَغْفِرُوْا رَبَّكُمْ ثُمَّ تُوْبُوْۤا اِلَیْهِ   اِنَّ رَبِّیْ رَحِیْمٌ وَّدُوْدٌ.

তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর। অতঃপর তাঁর কাছে ফিরে আস। নিশ্চয়ই আমার রব অতি দয়ালু ও অধিক মমতাময়।সূরা হুদ (১১) : ৯০তাওবা ও ইস্তিগফারকারীদের প্রতি আল্লাহ শাস্তি প্রেরণ করেন না

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন

وَ مَا كَانَ اللهُ لِیُعَذِّبَهُمْ وَ اَنْتَ فِیْهِمْ  وَ مَا كَانَ اللهُ مُعَذِّبَهُمْ وَ هُمْ یَسْتَغْفِرُوْنَ

আপনি তাদের মাঝে থাকা অবস্থায় কিছুতেই আল্লাহ তাদেরকে শাস্তি দেবেন না। আর তারা ক্ষমা প্রার্থনা করা অবস্থায়ও তাদেরকে শাস্তি দেবেন না। সূরা আনফাল (০৮) : ৩৩

এমনকি তাওবাইস্তিগফারের ফলে আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো জাতির উপর শাস্তি আসার প্রতিশ্রম্নতি দেওয়ার পরও সে শাস্তিকে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। এক্ষেত্রে হযরত ইউনুস আ.এর কওমের ঘটনা উল্লেখযোগ্যযা আল্লাহ তাআলা কুরআন মাজীদে সংক্ষেপে উল্লেখ করেছেন। ইরশাদ হয়েছে

فَلَوْ لَا كَانَتْ قَرْیَةٌ اٰمَنَتْ فَنَفَعَهَاۤ اِیْمَانُهَاۤ اِلَّا قَوْمَ یُوْنُسَ لَمَّاۤ اٰمَنُوْا كَشَفْنَا عَنْهُمْ عَذَابَ الْخِزْیِ فِی الْحَیٰوةِ الدُّنْیَا وَ مَتَّعْنٰهُمْ اِلٰی حِیْنٍ

কেন কোনো জনপদ(বাসীরা) ঈমান আনয়নকারী হল নাতাহলে তাদের ঈমান তাদের উপকারে আসত। তবে ইউনুসের সম্প্রদায় ব্যতিক্রম। তারা যখন ঈমান আনল তখন আমি পার্থিব জীবনে তাদের উপড় থেকে লাঞ্ছনার আযাব তুলে নিলাম এবং তাদেরকে একটা সময় পর্যন্ত জীবন উপভোগ করতে দিলাম। সূরা ইউনুস (১০) : ৯৮

হযরত ইউনুস আ. তাঁর কওমকে তাওহীদের দাওয়াত দিলেন এবং তাদেরকে বহুভাবে বোঝানোর চেষ্টা করলেনকিন্তু তারা তাঁর দাওয়াতে সাড়া দিল না। বরং তাদের অবাধ্যতা ও সীমালঙ্ঘনে ডুবে থাকল। তখন তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে শাস্তি আসার প্রতিশ্রম্নতি শুনিয়ে দিলেন। হযরত ইউনুস আ. যেহেতু বুঝতে পেরেছিলেন যেতাদের উপর তো এখন শাস্তি আসা অবধারিততাই তিনি নিজ এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য রওয়ানা হলেন। তারা হযরত ইউনুস আ.কে যখন খুঁজে পেল না তখন তারা বুঝতে পারল যেএখন তো আমাদের উপর শাস্তি এসেই যাবে। তাই তারা তাওবাইস্তিগফার করতে লাগল। তাদের এ অবস্থা দেখে আল্লাহ তাআলা আর শাস্তি প্রেরণ করলেন না। এভাবে তারা তাওবা ও ইস্তিগফারের ফলে আল্লাহর শাস্তি থেকে বেঁচে গেল।তাওবা ও ইস্তিগফার মুমিনের পার্থিব নিআমতশক্তি সামর্থ্য ও যাবতীয় সমৃদ্ধি লাভে সাহায্য করে

কুরআনে ইরশাদ হয়েছে

فَقُلْتُ اسْتَغْفِرُوْا رَبَّكُمْ  اِنَّهٗ كَانَ غَفَّارًا، یُّرْسِلِ السَّمَآءَ عَلَیْكُمْ مِّدْرَارًا، وَّ یُمْدِدْكُمْ بِاَمْوَالٍ وَّ بَنِیْنَ وَ یَجْعَلْ لَّكُمْ جَنّٰتٍ وَّ یَجْعَلْ لَّكُم اَنْهٰرًا.

আমি বললামতোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর। নিশ্চয়ই তিনি ক্ষমাশীল। তাহলে তিনি তোমাদের প্রতি মুষলধারে বৃষ্টি প্রেরণ করবেন। আর তিনি তোমাদেরকে সম্পদ ও সন্তানাদি বৃদ্ধি করে দেবেন। তিনি তোমাদের জন্য বিভিন্ন উদ্যান ও নদনদী সৃষ্টি করে দেবেন। সূরা নূহ (৭১) : ১০১২

অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে

وَ یٰقَوْمِ اسْتَغْفِرُوْا رَبَّكُمْ ثُمَّ تُوْبُوْۤا اِلَیْهِ یُرْسِلِ السَّمَآءَ عَلَیْكُمْ مِّدْرَارًا وَّ یَزِدْكُمْ قُوَّةً اِلٰی قُوَّتِكُمْ وَ لَا تَتَوَلَّوْا مُجْرِمِیْنَ.

হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর। অতঃপর তাঁর কাছে তাওবা কর। তিনি তোমাদের প্রতি মুষলধারে বৃষ্টি প্রেরণ করবেন। তোমাদের শক্তিকে আরও বাড়িয়ে দেবেন। আর তোমরা অপরাধী হয়ে মুখ ফিরিয়ে নিও না। সূরা হুদ (১১) : ৫২

এভাবে কুরআন মাজীদ তাওবা ও ইস্তিগফারের অনেক ফায়দা ও উপকারের কথা তুলে ধরেছে। তাই আল্লাহ তাআলার ক্ষমাদয়া এবং দুনিয়া ও আখিরাতে সব দিক থেকে তাঁর সাহায্য লাভ করার জন্য তাওবা ও ইস্তিগফারের বিকল্প নেই।

তাওবা ও ইস্তিগফারের উপকারিতায় রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বক্তব্য প্রণিধানযোগ্য। তিনি বলেন

عن ابن عباس، رضي الله عنهما قال: قال رسولُ الله صلَّى الله عليه وسلم: مَنْ لَزِمَ الاستغفارَ جَعَلَ الله له من كل ضيق مَخرَجاً، ومن كل هم فرَجاً، ورزقَه من حيث لا يحتسب.

যে ব্যক্তি বেশি বেশি ইস্তিগফার করবে আল্লাহ তাআলা তার সকল সংকট থেকে উত্তরণের ব্যবস্থা করে দেনতার সকল পেরেশানী দূর করে দেন এবং তাকে এমন জায়গা থেকে রিযিক দান করেনযা সে কল্পনাও করতে পারে না। সুনানে আবু দাউদহাদীস ১৫১৮

মোটকথাতাওবা ও ইস্তিগফারের মাধ্যমে একজন মুমিনের দুনিয়া ও আখেরাতের জীবন সর্বাঙ্গীন সুন্দর ও সফল হয়। এর মাধ্যমে একজন মুমিন লাভ করে উভয় জাহানের সমৃদ্ধি। সর্বোপরি তাওবা ও ইস্তিগফারের মাধ্যমে মুমিন আল্লাহ তাআলার নিকটতম বান্দায় পরিণত হয়।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলের সগীরাকবীরা গুনাহসহ সব ধরনের অন্যায়অপরাধ ক্ষমা করেন। এবং আমাদেরকে সব ধরনের গুনাহ থেকে তাওবা করার তাওফীক দান করেন— আমীন

লেখকঃ মোঃ কামাল উদ্দিন ,লেকচারার,ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ,আতাকরা কলেজ,কুমিল্লা।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2020