1. mskamal124@gmail.com : thebanglatribune :
  2. wp-configuser@config.com : James Rollner : James Rollner
রোজা তাকওয়া অর্জনের শ্রেষ্ঠ মাধ্যম। মোঃ কামাল উদ্দিন - The Bangla Tribune
মে ২৬, ২০২৪ | ৮:০৫ পূর্বাহ্ণ

রোজা তাকওয়া অর্জনের শ্রেষ্ঠ মাধ্যম। মোঃ কামাল উদ্দিন

  • প্রকাশের সময় : শনিবার, মার্চ ২৫, ২০২৩

আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের বিশেষ রহমতে আজ  আমরা রমযান অতিবাহিত করছি। জানি না, কতটুকু মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের কাজ করেছি। যা-ই করেছি বা যেভাবেই কাটিয়েছি, সামনের দিনগুলো যেন আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারি সে জন্য অনেক বেশি নফল ইবাদতের প্রয়োজন রয়েছে। যদিও আমরা সবাই জানি, পবিত্র এ মাস অত্যন্ত বরকতপূর্ণ মাস।

তাই আমাদের সবার উচিত, বিশুদ্ধ চিত্তে আল্লাহর ইবাদত করা, সাধারণভাবে আমরা দেখতে পাই এ মাসে সবাই কম বেশি ইবাদত করেই থাকে। তবে এ মাসে মানুষ আগের তুলনায় অনেক বেশি আল্লাহর আদেশ মেনে চলার প্রতি চেষ্টা করে। সবাই বিভিন্ন ধরনের পুণ্যকর্ম করতে আগ্রহ রাখে আর সবাই চায় সব ধরনের মন্দকাজকে পরিত্যাগ করতে।

রমজানের রোজা আমাদের জন্য এ কারণেই ফরজ করেছেন যাতে আল্লাহতায়ালার সব আদেশ-নিষেধ মেনে চলে যেন আমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারি। আল্লাহতায়ালার নৈকট্য লাভ করতে পারি। আল্লাহ রাব্বুল আলামিনকে লাভ করার জন্য রোজা একটি বড় মাধ্যম। পবিত্র কোরআনে বারবার তাকওয়া অর্জন করার কথা বলা হয়েছে, এই তাকওয়া আমরা কীভাবে অর্জন করব? আমাদের জানতে হবে তাকওয়া কাকে বলে?

মুসলমানদের ওপর রোজা ফরজ করার আসল উদ্দেশ্য কী সে সম্পর্কে মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে বলেন, হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর। যেন তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।’ (সূরা আল-বাক্বারা: ১৮৩) অর্থাৎ তাকওয়ার শিক্ষা অর্জন করাটাই হল রোজার আসল উদ্দেশ্য।

তাকওয়া আরবি শব্দ। এর আভিধানিক অর্থ ভয় করা, আত্মরক্ষা করা, বেঁচে থাকা ঈত্যাদি। আর ইসলামী শরীয়তের পরিভাষায় তাকওয়া বলতে আল্লাহর ভয়ে ভীত হয়ে জাহান্নাম থেকে বাঁচার জন্য সমস্ত প্রকার পাপাচার থেকে আত্মরক্ষা করাকে বোঝায়। তাকওয়া হলো মুমিনের আত্মার এমন এক শক্তি যা তাকে সর্বদা আল্লাহর ভয়ে ভীত রাখে। সে সদা সর্বদা এই ভয়ে ভীত থাকে যে জীবনের ক্ষুদ্রাতি ক্ষুদ্র কোনো কাজেও যদি আল্লাহর হুকুম অমান্য করা হয় তা হলেও কিয়ামতের দিন সেজন্য জবাবদিহি করতে হবে এবং জাহান্নামের কঠিন শাস্তি ভোগ করতে হবে।

তাই মুমিন ব্যক্তি সব সময় নিজের আত্মার বাধ্যবাধকতায় নিজ জীবনের যাবতীয় কর্মকাণ্ড খোদায়ি বিধানের আলোকে নিয়ন্ত্রণ করে। অতএব বলা যায় তাকওয়ার অর্থ হলো, জীবনকে আত্মনিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা।

পাপ প্রবণতা মানুষের সৃষ্টিগত বৈশিষ্ট্য। ফেরেস্তাদের মধ্যে পাপ করার যোগ্যতাই নাই। তাই তারা কিয়ামত পর্যন্ত দীর্ঘ হায়াত পাবার পরেও কোন পাপাচারে করতে পারে না।

বিপরীতে মানুষের মধ্যে রয়েছে তার নাফ্স, যা তাকে সব সময় পাপাচারের দিকে আকৃষ্ট করে। আর বিতাড়িত শয়তান মানুষকে মহান আল্লাহর অবাধ্যতার পথে ধাবিত করতে পণ করেই পৃথিবীতে এসেছে। সুতরাং মানুষ পাপ করবে সেটাই স্বাভাবিক। পাপ করার পরে মানুষ অনুতপ্ত হবে, নিজের পাপের জন্য মহান আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করবে। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বিনীত বান্দার সব পাপ মাফ করবেন, তার আমলনামায় পাপের জায়গাটা পূন্য দিয়ে ভরে দেবেন। মানুষ ফেরেস্তার চেয়ে বেশি মর্যাদাবান হওয়ার আসল কারণ এটাই। আর মুমিন বান্দার পাপ থেকে মুক্তি লাভের মহান সুযোগ নিয়ে প্রতি বছর একবার করে আসে মাহে রমজান।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যখন রমজান মাস আরম্ভ হয়, তখন শয়তান ও দুষ্টুপ্রকৃতির জীনদের বন্দি করে রাখা হয়, আর জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। অতঃপর তার একটি দরজাও আর খোলা হয় না এবং জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়। অতঃপর তার একটি দরজাও আর বন্ধ করা হয় না।

আর একজন ঘোষক অনবরত ঘোষণা করতে থাকে, হে সৎকর্মপরায়ন! তুমি দ্রুত অগ্রসর হও। আর হে পাপাচারি! তুমি নিবৃত হও। আর মহান আল্লাহ বহু জাহান্নামিকে মুক্তি দান করেন। আর এটা রমজানের প্রত্যেক রাতেই করা হয়। (সুনানে তিরমিযী, হাদীস: ৬৮২, সহীহ ইবনে খুজাইমা, হাদীস: ১৮৮৩, সহীহ ইবনে হিব্বান, খণ্ড: ৮, হাদীস: ২২২, সুনানে ইবনে মাযা, হাদীস: ১৬৪২,  মুসনাদে আহমদ, খণ্ড: ১২, হাদীস: ৬০)

তাকওয়ার পরিচয় দিতে গিয়ে উবাই ইবনে কাব (রা.) বর্ণনা করেন, ‘উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) উবাই ইবনে কাব (রা.)-এর কাছে তাকওয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপনি কী কণ্টকাকীর্ণ পথে চলেন? তিনি জবাবে বলেন, হ্যাঁ। উবাই ইবনে কাব (রা.) বলেন, ‘তখন আপনি কিভাবে চলেন? তিনি বলেন, খুব সতর্কতার সঙ্গে কাঁটার আঁচড় থেকে শরীর ও কাপড় বাঁচিয়ে চলি। উবাই ইবনে কাব (রা.) বলেন, এটাই তাকওয়া।’

তাকওয়া মানেই হলো অত্যন্ত সতর্কভাবে জীবন যাপন করা, যাতে গুনাহর কালিমা এবং ইবাদতে অনিষ্ট যুক্ত হতে না পারে। একটা পরিচ্ছন্ন ও পবিত্র জীবনযাপনের জন্য প্রতিটি কাজে এমনভাবে সতর্ক থাকতে হবে, যাতে কাজটি আল্লাহর সন্তুষ্টির আলোকে সম্পন্ন হয়। ইমাম গাজালি (রহ.)-এর মতে, আল্লাহকে ভয় করে যাবতীয় মন্দ ও খারাপ কাজ বর্জন করে যাবতীয় ভালো ও উত্তম কাজকে নিজের জীবনে গ্রহণ করার নামই তাকওয়া।’

তাকওয়ার জীবন পরিশুদ্ধ জীবন ও সফলতার জীবন। তাকওয়ার গুণ অর্জন ছাড়া দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতার আর কোনো বিকল্প নেই। পবিত্র কোরআন ও নবীজির অনেক হাদিসে তাকওয়ার নীতি অবলম্বনের প্রতি নির্দেশ করা হয়েছে। সুরা আলে ইমরানের ১০২ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘হে ঈমানদাররা! আল্লাহকে যথার্থভাবে ভয় করো এবং আত্মসমর্পণকারী না হয়ে কোনো অবস্থায়ই মৃত্যুবরণ কোরো না।’ আল্লাহ তাআলার সান্নিধ্য লাভ এবং আখিরাতের জীবনে তাঁর ঘনিষ্ঠতা পাওয়ার অন্যতম উপায় হলো তাকওয়া। আর এই তাকওয়া অর্জনের জন্যই রোজার বিধান ঘোষণা করেছেন আল্লাহ তাআলা। আমরা মাহে রমজানের রোজাসমূহ আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের অবলম্বন হিসেবে যথাযথভাবে পালন করব। এর মাধ্যমে আমরা যে তাকওয়ার গুণ অর্জন করব, তা আমাদের জীবন চলার পথকে সহজ করবে এবং আমাদের সফলতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেবে, তাই রমজানের একমাস পাপ-পঙ্কিলতা আর অপরাধ প্রবণতা থেকে মুক্ত থাকার বিশেষ অনুশীলন ‘সিয়াম সাধনা’ আমাদের সমজটাকে পাপাচার মুক্ত করবে সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।

লেখকঃ প্রভাষক, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ,আতাকরা কলেজ,কুমিল্লা।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2020