1. mskamal124@gmail.com : thebanglatribune :
  2. wp-configuser@config.com : James Rollner : James Rollner
বিবর্তনবাদের ধারণা ও ইসলামী মতবাদঃ মোঃ কামাল উদ্দিন - The Bangla Tribune
মে ২৬, ২০২৪ | ৮:১৫ পূর্বাহ্ণ

বিবর্তনবাদের ধারণা ও ইসলামী মতবাদঃ মোঃ কামাল উদ্দিন

  • প্রকাশের সময় : সোমবার, আগস্ট ২৯, ২০২২

বিবর্তন বা অভিব্যক্তি হলো এমন একটি জীববৈজ্ঞানিক ধারণা যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে জীবের গাঠনিক ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের ক্রমপরির্তনকে বুঝায়। কোনো জীবের বংশধরদের মাঝে যে জিনরাশি ছড়িয়ে পড়ে তারাই বংশপ্রবাহে বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য সৃষ্টি করে। জিনের পরিব্যক্তির মাধ্যমে জীবের নির্দিষ্ট কোনো বংশধরে নতুন বৈশিষ্ট্যের উদ্ভব হতে পারে বা পুরনো বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তন ঘটতে পারে। যদিও একটি প্রজন্মে জীবের বৈশিষ্ট্যের যে পরিবর্তন সাধিত হয়, তা খুবই সামান্য। কিন্তু কালক্রমে জীবগোষ্ঠীতে সেই পরিবর্তন উল্লেখযোগ্য হয়ে দেখা দেয় এমনকি একসময় তা নতুন প্রজাতির উদ্ভবেরও কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

বিবর্তনের ভিত্তি হচ্ছে বংশপরম্পরায় জিনের সঞ্চারণ। যা একটি জীবের বংশগতভাবে প্রাপ্ত বৈশিষ্ট্যগুলোর জন্য দায়ী, তা-ই জিন। এই জিনগুলোর বিভিন্নতার কারণে একটি জীবগোষ্ঠীর বিভিন্ন সদস্যদের মধ্যে বংশগত বৈশিষ্ট্যে পার্থক্য বা প্রকরণ সৃষ্টি হয়। বিবর্তন মূলত দুটি বিপরীত নিয়ামকের ফল : একটি প্রক্রিয়ায় ক্রমাগতভাবে নতুন প্রকরণ সৃষ্টি হয়, আর অন্যটির প্রভাবে এই প্রকরণগুলোর কোনো কোনোটির সংখ্যা বৃদ্ধি পায় এবং কোনো কোনোটির সংখ্যা হ্রাস পায়। নতুন প্রকরণ উৎপন্ন হয় দুটি প্রধান উপায়ে :

১. জিনগত মিউটেশন বা পরিব্যপ্তির মাধ্যমে এবং

২. বিভিন্ন জীবগোষ্ঠী বা প্রজাতির মধ্যে জিনের স্থানান্তরের মাধ্যমে।

বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে বিবর্তনকে ব্যাখ্যাকারী তত্ত্বগুলোকে বিবর্তনবাদী জীববিজ্ঞানীরা যাচাই করে দেখেছেন, এগুলোর উন্নয়ন সাধন করেছেন এবং এখনও করে যাচ্ছেন। ঊনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞানের গবেষণা শুরু হয়েছিল যখন ফসিল রেকর্ড আর প্রাণীবৈচির্ত্যের ভিত্তিতে অধিকাংশ বিজ্ঞানীই এই সিদ্ধান্তের উপনীত হয়েছিলেন যে, সময়ের সাথে সাথে জীব প্রজাতি ক্রমশ পরিবর্তিত হয়েছে।তবে বিবর্তন সংঘটিত হওয়ার প্রক্রিয়াটি অস্পষ্ট বা বলতে গেলে অজানাই রয়ে যায় যতদিন না চার্লস ডারউইন ও আলফ্রেড রাসেল ওয়ালেস পৃথক পৃথকভাবে তাদের প্রাকৃতিক নির্বাচন তত্ত¡ উপস্থাপন করলেন। ১৮৫৯ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত আলোড়ন সৃষ্টিকারী বই অন দ্য অরিজিন অব স্পিসিস এর মাধ্যমে ডারউইন যখন প্রাকৃতিক নির্বাচন তত্ত্ব প্রচার করলেন, তখনই তা বৈজ্ঞানিক মহলে ব্যাপকভাবে গ্রহণযোগ্যতা পায় এবং সর্বসাধারণ কর্তৃক সমাদৃত হয়।তারও অনেক পরে, ১৯৩০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে ডারউইনীয় প্রাকৃতিক নির্বাচন তত্ত্বের সাথে মেন্ডেলীয় বংশগতিবিদ্যার মেলবন্ধনে প্রতিষ্ঠিত হয় বিবর্তনের আধুনিক সংশ্লেষণী তত্ত্ব কোন এক ধরনের জীব অপর এক প্রকার জীব হতে উৎপত্তি লাভ করতে পারে এমন ধারণা এনাক্সিম্যান্ডার ও এম্পেডকলসের মত প্রাথমিককালের কয়েকজন সক্রেটিস-পূর্ব গ্রিক দার্শনিক সর্বপ্রথম প্রস্তাব করে থাকেন।রোমান যুগে এমন কিছু প্রস্তাবনার অস্তিত্ব ছিল। কবি ও দার্শনিক লুক্রেটিয়াস তার বৃহৎকর্ম দে রেরাম ন্যাচুরা (অন দ্য ন্যাচার অব থিংস) এ এম্পেডকলসের চিন্তাধারাকে অনুসরণ করেন। মূলত দুটি ঘটনার মধ্য দিয়ে বিবর্তন সংঘটিত হয়ঃ ১. ভ্যারিয়েশন (variation) বা প্রকরণঃ একটি পপুলেশন বা জীবগোষ্ঠীর অন্তর্গত সদস্য বা জীবদের পর®পরের মধ্যে বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যে পার্থক্য থাকবে। ২. হেরেডিটি (heredity) বা বংশগতিঃ এই বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য পরবর্তী প্রজন্মে বংশগতভাবে (genetically) সঞ্চারিত হবে। অর্থাৎ, যখন এই বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যস¤পন্ন জীব বা প্রকরণদের (variants) মধ্যে কোন কোন প্রকরণ সংখ্যায় বৃদ্ধি পায় বা কোন কোনটি হ্রাস পায়, তখন এই পরিবর্তনের সাথে সাথে সমগ্র গোষ্ঠীই (population) পরিবর্তিত হয়ে যায়। এই পরিবর্তনই হচ্ছে বিবর্তন। এর ফলে যেমন কোন কোন বৈশিষ্ট্য পুরোপুরিভাবে হারিয়ে যেতে পারে, আবার তেমনি নতুন নতুন বৈশিষ্ট্য আবির্ভ‚ত হতে পারে। বিবর্তন বলতে জীবজগতের উন্নতি বোঝায় না; বিবর্তন হচ্ছে পরিবর্তন, সাধারণ পরিবর্তন নয়, ডারউইনের ভাষ্যমতে এটি “পরিবর্তন সংবলিত উদ্ভব” (descent with modification)।

এই পরিবর্তন ইতিবাচক, নেতিবাচক কিংবা নিরপেক্ষ হতে পারে। এটি নির্ভর করে পারিপার্শ্বিক অবস্থা বা পরিবেশের উপর। বিবর্তন কোন তাৎক্ষণিক প্রক্রিয়া নয়। বিবর্তন নিরবচ্ছিন্নভাবে চলমান প্রক্রিয়া। একটি দৃশ্যমান বা চোখে পড়ার মত বড় ধরনের পরিবর্তনের জন্য সাধারণত লক্ষ লক্ষ বছর লেগে যায়। একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন সাধিত হওয়ার জন্য একটি জীবগোষ্ঠীকে হাজার হাজার অন্তর্বতী অবস্থা (transitional forms) পার করতে হয়। বিবর্তনবাদ ইসলামি বিশ্বাসের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এটা জেনে ইসলামের অনেক সমালোচকও এই কারণেই ইসলামের সমালোচনা করেন যে, ইসলাম বিবর্তনবাদকে সমর্থন করে না। মুসলিমরা এই চতুর্মুখী চাপের কারণেই স্বীয় বিশ্বাসের সাথে সৎ থেকে তাদের বিশ্বাসকে প্রতিরোধ করার মতো কঠিন পরিস্থিতিতে পড়ে যান। বিবর্তনবাদ বিশ্বাস করা কুফর এমন কোনো ধর্মতাত্ত্বিক জবাব আমি দেব না।তবে ডারইউনের বিবর্তনবাদ মতবাদে মানুষের উৎপত্তি বানর থেকে যে তত্ত্ব তা সত্য নয়। বরং আমার দাবি হচ্ছে, কুরআন ও হাদিসে এ বিষয়ে যা এসেছে তা খোলা চোখে পড়ার পর এবং মুসলিমরা পরম্পরাগতভাবে এ সকল বিষয় যেভাবে বুঝে এসেছে তা জানার পর প্রকৃতিবাদ, বিশেষত বিবর্তনবাদের সাথে একে সাংঘর্ষিক বলেই মনে হয়। খ্রিস্টান, মুসলিম ও অন্যান্য সকল ধর্মেরই কিছু ধর্মতত্ত্ববিদরা দাবি করেন যে, ধর্ম কখনোই এমন কোনো দাবি করে না যা সরাসরি বিজ্ঞানের বিরোধী। তাদের কাছে ধর্ম হলো কেবল নীতিনৈতিকতায় ঠাসা কিছু একটা, আর বিজ্ঞান হলো ধর্মের সীমামুক্ত বাহ্যিক মহাবিশ্ব সম্পর্কে নিরপেক্ষ বয়ান (Non-Overlapping Magisterial)। আরো সহজভাবে বলতে গেলে ধর্ম বলে কী করতে হবে, কী করা উচিত এসব বিষয়; আর বিজ্ঞান তার খোঁজ করে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে বিজ্ঞান ও ধর্মের পরিধি ভিন্ন ভিন্ন হওয়ার কারণে তা কখনোই পারস্পারিক সাংঘর্ষিক হবে না।বিবর্তনবাদ ও ওহির মধ্যে সংঘর্ষ হওয়ার বিষয়ে আমার দাবি হচ্ছে, আমরা যদি কুরআন মোটামুটিভাবেও পড়ি তবে আমরা অবশ্যই কুরআনকে বিজ্ঞানের তত্ত্বকথায় ভরপুর বিজ্ঞানের কোনো বই হিসেবে খুঁজে পাব না, এটা একেবারেই ঠিক কথা; তবে পাশাপাশি আমরা দেখতে পাব যে, কুরআন বিজ্ঞানের কোনো বই না হওয়া সত্ত্বেও  বাহ্যিক মহাবিশ্ব সম্পর্কে কিছু দাবি করছে। এই ভাসাভাসা অধ্যয়নেই কুরআনের অনেক আয়াতকে সরাসরি বিজ্ঞানের সাথে সাংঘর্ষিক বলে মনে হয়। কোনো কোনো বৈপরীত্য আবার প্রত্যক্ষ ও কঠিন ধরনের।১. আদমের কোনো জৈবিক পিতা-মাতা ছিল না, অর্থাৎ তার কোনো বাবা-মা ছিল না। ২.আদম একজন জলজ্যান্ত মানুষ ছিলেন, প্রাথমিক প্রাণ (Proto-Organism) জাতীয় কিছু ছিলেন না। ৩.জৈবিক পরম্পরা বা প্রত্যেক জীবের জৈবিক পূর্বপুরুষ আছে এই তত্ত্ব সত্য।মানুষের উৎপত্তি বিষয়ে বিজ্ঞান ও কুরআনের বর্ণনার মাঝে আমরস সুস্পষ্ট বৈপরীত্য দেখতে পাচ্ছি। বিবর্তনের মৌলিক ও অলঙ্ঘনীয় মূলনীতিগত ভিত্তি, যার সারকথা হলো, প্রত্যেক জীবই আরেকটি জীব হতে পর¤পরাক্রমে এসেছে। প্রাণ হঠাৎ করে আকাশ থেকে পড়েনি, আর না বাতাসে ভেসে এসেছে; হ্যাঁ তবে প্রাণের প্রারম্ভিক বস্তু (Primordial Soup) এর আওতার বাহিরে থাকবে। তবে এর পরবর্তীতে কোনো জীবই এমনকি প্রাথমিক প্রাণও হঠাৎ করে উদ্ভাসিত হয়নি, বরং রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই বিবর্তিত হয়েছে, যা বর্তমানে Abiogenesis’ নামক বিজ্ঞানের পৃথক শাখার আলোচনার বিষয়। অপরদিকে ওহির দাবি হচ্ছে প্রথম জীব হলেন আদম (আ.)। যিনি মানুষই ছিলেন। কুরআনের উল্লেখিত ৩ : ৫৯; ৭ : ১৯-২৫, ৩৫-৩৭; ২ : ৩১-৩৩ আয়াত থেকে প্রাণের প্রথম মানবিক উৎস আদমের ব্যাপারে কুরআনের ধারণা লাভ করা যায়। প্রাক-আধুনিক সময়ে কোনো মুসলিমই এসব আয়াতকে বিজ্ঞানের প্রোটো-অরগানিজম ধারণা অনুযায়ী ব্যাখ্যা করেননি। তাই কাউকে তা করতে হলে অবশ্যই দীর্ঘদিন যাবত প্রচলিত এই ব্যাখ্যা থেকে সরে আসতে হবে। মুসলমান বিবর্তনবাদীদের মতে “উল্লেখযোগ্য কিছু ছিল না” দিয়ে সেই সময়টাকেই বোঝানো হয়েছে , যখন মানুষ অন্য রূপে ছিল অর্থাৎ রূহের জগতে।মানুষ সৃষ্টি যে ধাপে ধাপে করা হয়েছে তার বর্ননা ৭১:১৪। অথচ তিনি তোমাদেরকে বিভিন্ন রকমে সৃষ্টি করেছেন।”মহান আল্লাহ তোমাদেরকে মৃত্তিকা থেকে উদগত করেছেন” ১৮:৩৭। “তার সঙ্গী তাকে কথা প্রসঙ্গে বললঃ তুমি তাঁকে অস্বীকার করছ, যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে, অতঃপর বীর্য থেকে, অতঃপর র্প‚নাঙ্গ করেছেন তোমাকে মানবাকৃতিতে” ৭৬:২৮। “আমি তাদেরকে সৃষ্টি করেছি এবং মজবুত করেছি তাদের গঠন” ৬৪:৩। তিনি নভোমন্ডল ও ভ‚মন্ডলকে যথাযথভাবে সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদেরকে আকৃতি দান করেছেন, অতঃপর সুন্দর করেছেন তোমাদের আকৃতি।সহিহ হাদিসে বলা হয়েছে, ৪২ দিন পর ফেরেশতা এসে ভ্রƒণকে মানবীয় আকৃতি দান করেন এবং তার কান, চোখ, ত্বক, গোস্ত, ও হাড় সৃষ্টি করেন (সহিহ মুসলিম)।

এভাবে কোরআন মজিদ ও হাদিসের অসংখ্য তথ্য দ্বারা প্রমাণিত হয়, মানুষ তার নিজস্বরূপে পৃথিবীতে আসে। অথচ চার্লস ডারউইন (১৮০৯-১৮৮২) জীবের রূপান্তরের জন্য প্রাকৃতিক নির্বাচন (Natural selection) নীতির কথা উল্লেখ করেছেন। তার মতে, পৃথিবীর সকল জীব প্রাকৃতিকভাবে টিকে থাকা এবং তাদের বংশবৃদ্ধি করার ক্ষেত্রে উপযুক্ত হওয়ার সমান যোগ্যতা রাখে না। যাদের যোগ্যতা বেশি তারাই প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকে। অন্যদিকে জীবের শারীরিক পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও রূপান্তরও ঘটেছে ঐ একই প্রক্রিয়ায়। প্রাকৃতিক নির্বাচনের যে পদ্ধতির কথা বলা হয়, তাতে এ ধরনের ব্যতিক্রম অসম্ভব। বিশেষত কোনো প্রাণী-প্রজাতি কিংবা কোনো উদ্ভিদের এমন কোনো উন্নতি বা বিস্তৃতি অসম্ভব, যা দ্বারা সংশ্লিষ্ট প্রাণী বা উদ্ভিদ প্রজাতির ক্ষতি সাধন হতে পারে।

একশ্রেণির দেওদার নামক গাছে এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থের সৃষ্টি হয়। ঐসব রাসায়নিক পদার্থ এমন সব পোকামাকড় আকৃষ্ট করে, যার ফলে সংশ্লিষ্ট গাছটির ধ্বংস ত্বরান্বিত হয়। এ রাসায়নিক পদার্থের সৃষ্টিই সংশ্লিষ্ট গাছটির মৃত্যুর জন্য দায়ী। অ্যান্টিলোপ হরিণ তার দ্রুততার জন্য অনায়াসেই শত্রুর কবল থেকে রক্ষা পেতে পারে। কিন্তু এদের মধ্যেই একশ্রেণির হরিণ আছে, যাদের নাভিতে সৃষ্টি হয় এমন এক সুগন্ধি, সেই হরিণ যতদূর যায়, ততদূর তার রেশ রেখে চলে। শিকারিরা এ কস্তুরী বা মৃগনাভির সুগন্ধি অনুসরণ করে সহজেই তাদের শিকার করে থাকে। সুতরাং ডারউইনের থিওরি সত্য বলে বিশ্বাস করলে এটাও বিশ্বাস করতে হয় যে, এ শ্রেণির হরিণ এত দিনে নির্বংশ হয়ে গেছে। কিন্তু তা মোটেও সত্য নয়।

কোয়েলাক্যান্থে (একধরনের মাছ) ওপর জীববিজ্ঞানীরা যে গবেষণা চালিয়েছেন, সেসব গবেষণার ফলাফল দেখে তারা নিজেরাই বিস্ময়ে বিমূঢ় হয়ে পড়েছেন। তারা দেখতে পেয়েছেন ডারউইনের থিওরির সম্পূর্ণ বিপরীত ধারায় এ শ্রেণির মাছ শুধু টিকে যায়নি বরং লক্ষ-কোটি বছর যাবত এ শ্রেণির মাছ তাদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যও অটুট রেখে চলেছে। ডারউইনের থিওরি তথা ন্যাচারাল সিলেকশনের ধারা যদি সত্য হতো, তাহলে এ শ্রেণির মাছের চরিত্রগত যাবতীয় বৈশিষ্ট্য বিলুপ্ত হতো এবং তারা নিজেরাও ভিন্ন শ্রেণির মাছ কিংবা অন্য প্রাণীতে রূপান্তরিত না হয়ে পারত না। অথচ এ মাছের গঠনকাঠামো এ প্রমাণই সাব্যস্ত, করেছে যে, এ শ্রেণির মাছ টিকে রয়েছে এবং লক্ষ-কোটি বছর যাবত এ শ্রেণির মাছের মধ্যে তেমন কোনো পরিবর্তন সাধিত হয়নি।অনেক বিজ্ঞানী-গবেষকই তাদের গবেষণা ও বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা নিরীক্ষায় ডারউইনের তত্ত্বের বিপরীতে ভ‚রি ভ‚রি তথ্য ও প্রমাণ পেয়েছেন। ঐসব তথ্য ও প্রমাণ খুঁটিয়ে দেখতে গেলে দেখা যাবে, প্রাণিজগতের গঠনকাঠামোর পরিবর্তন কখনোই এক বা অভিন্ন নয়। তাছাড়া কোন পরিবর্তনটি যে সংশ্লিষ্ট প্রাণিজগতের জন্য ক্ষতিকর আর কোনটি যে তাদের টিকে থাকার জন্য অনুকল তা নির্ণয় করাও এক দুঃসাধ্য ব্যাপার। আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে পবিত্র কুরআন ও সহিহ হাদিসের উপর বাস্তবতার স¤পর্ক খুঁজে বের করার জ্ঞান দান করুন এবং সেই সাথে আমল করার তাওফিক দান করুন।আমিন।।
লেখকঃ প্রভাষক, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ,আতাকরা কলেজ, কুমিল্লা, বাংলাদেশ।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2020