1. mskamal124@gmail.com : thebanglatribune :
  2. wp-configuser@config.com : James Rollner : James Rollner
জ্ঞান সাধনা ও ইসলামের প্রচার ও প্রসারে আল্লামা হাফিজ্জি হুজুর (র.)- মোঃ কামাল উদ্দিন - The Bangla Tribune
মে ২২, ২০২৪ | ৫:১৬ অপরাহ্ণ
শিরোনাম :
৪টি পদে নিয়োগ দিবে ইসলামাবাদ ছিদ্দিকীয়া ফাযিল (ডিগ্রি) মাদরাসা সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দিবে উলানিয়া করোনেশন হাইস্কুল ওবায়দুল কাদেরের উদ্দেশে রিজভী ‘ব্যাংক কি রেস্ট্রিক্টেড ক্যান্টনমেন্ট? রুমায় যৌথ বাহিনীর সঙ্গে গোলাগুলিতে কুকি চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের তিন সদস্য নিহত রিজার্ভ সংকট জাতির জন্য অশনি সংকেত: ১২ দলীয় জোট এমপি আনোয়ারুল আজিমের ব্যবহৃত নম্বরটি বন্ধ : ডিবি বাংলাদেশে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে আগ্রহী কানাডা আত্মহত্যা করা জবির অবন্তিকা ব্যাচের তৃতীয় সেরা ইরানের প্রেসিডেন্টসহ কর্মকর্তাদের বহনকারী একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত ভ্যাপসা গরমে বগুড়ায় ২২ শিক্ষার্থী অসুস্থ

জ্ঞান সাধনা ও ইসলামের প্রচার ও প্রসারে আল্লামা হাফিজ্জি হুজুর (র.)- মোঃ কামাল উদ্দিন

  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, জুলাই ২৯, ২০২২

মাওলানা মুহাম্মাদুল্লাহ হাফেজ্জী হুজুর (রহ.) একটি নাম, একটি ইতিহাস, একটি বিপ্লব, একটি আদর্শ এবং একটি জীবন্ত কাফেলার নাম।এ বিস্ময়কর ব্যক্তিত্বের আবির্ভাব ঘটে তদানীন্তন খ্যাতনামা আলেম মাওলানা আকরামুদ্দীন মিয়াজীর পরিবারে। লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর থানার লুধুয়া নিবাসী এ মিয়াজী ছিলেন হযরত সাইয়েদ আহমদ বেরলভী (রহ.) এর বিখ্যাত খলিফা ও সহযোদ্ধা মাওলানা ইমামুদ্দীন নূরী (রহ.) এর বিশিষ্ট খলিফা। হযরত হাফেজ্জী হুজুর (রহ.) ছিলেন এ মিয়াজীরই পৌত্র ও মুন্সি মুহাম্মাদ ইদরীস সাহেবের পুত্র। এ ঐতিহ্যবাহী পরিবারে তিনি ১৮৯৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন। হাফেজ্জী হুজুর (রহ.) শৈশবে নিজ গ্রামের অদূরে ফতেপুর প্রাইমারি স্কুল থেকে পাস করে চন্দ্রগঞ্জ মাদ্রাসায় এক বছর পড়াশোনা করেন। কুমিল্লার লাকসামে নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানীর মাদ্রাসায় আরো এক বছর পড়েন। তখন তিনি এক পীর সাহেবের বাড়ি জায়গির থাকতেন। পীর সাহেব তাকে দৈনিক এক-দেড় ঘণ্টা আপাদমস্তক কাপড়ে ঢেকে জিকির করাতেন। ফলে ছোটবেলা থেকেই হাফেজ্জী হুজুর (রহ.) জিকিরে অভ্যস্তহয়ে পড়েন।পরে তিনি নোয়াখালীর খিলবাইছ মাদ্রাসায় ভর্তি হন।এ সময় একদিন আবর্জনার মধ্যে কোরআন পাকের আয়াত বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম লেখা এক টুকরা কাগজ দেখে তিনি তা তুলে এনে পরিষ্কার করে সযত্নে রেখে দেন। এই ঘটনার প্রভাবে তার মন গভীরভাবে মহান আল্লাহ ও কোরআনের দিকে ঝুঁকে পড়ে। তিনি কোরআন হিফজ করার জন্য কাউকে না বলে মাত্র দেড় টাকা সম্বল নিয়ে ভারতের পানিপথের উদ্দেশে বেরিয়ে যান। উল্লেখ্য, সে যুগে ভারতবর্ষে পানিপথের হিফজখানাটি ছিল হিফজ ও ইলমে কিরাত শিক্ষার অদ্বিতীয় স্থান। নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে পানিপথে পৌঁছে তিনি ১৯১৩ সালে হজরত কারী আবদুস সালাম (রহ.) এর অধীনে হিফজ শুরু করেন। হিফজ শেষ হওয়ার আগেই তিনি ও তার ওস্তাদ দুজনই মহামারিতে আক্রান্তহন। এতে ওস্তাদ হজরত কারী আবদুস সালাম (রহ.) ইন্তিকাল করেন, কিন্তু তিনি বেঁচে যান। সুস্থ হওয়ার পর বাকি হিফজ হজরত কারী আখলাক হুসাইন (রহ.) এর অধীনে ১৯১৫ সালে শেষ করেন।পানিপথ থেকে হিফজ শেষে তিনি ১৯১৫ থেকে ১৯২২ সাল পর্যন্ত সাহারানপুর মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেন এবং সেখান থেকে সিহাহ সিত্তার কিতাব শেষ করে ১৯২৩ সালে দারুল উলুম দেওবন্দ থেকে ইসলামী শিক্ষার সর্বোচ্চ স্তরের সনদ লাভ করেন।দেশে ফিরে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জামিয়া ইউনুছিয়ায় শিক্ষকতার পাশাপাশি দেশব্যাপী ইসলামী শিক্ষা বিস্তারে প্রচেষ্টা চালাতে শুরু করেন। অতঃপর ঢাকায় এসে আল্লামা শামছুল হক ফরিদপুরী ও আব্দুল ওয়াহহাব পীরজী হুজুরের সাথে বড়কাটারা আশরাফুল উলূম মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। হযরত হাফেজ্জী হুজুর (রহ) ঢাকার বিখ্যাত জামিয়া কুরআনিয়া আরাবিয়া লালবাগ, জামিয়া নূরিয়া ইসলামিয়া কামরাঙ্গীরচর, জামিয়া এমদাদুল উলূম ফরিদাবাদ, মাদরাসায়ে ইশাআতুল উলূম লুধূয়া, লক্ষ্মীপুরসহ সারা দেশে দুশতাধিক দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মসজিদ প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। মাদরাসা প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনায় হযরত হাফেজ্জী হুজুর (রহ) যে অবদান রেখে গেছেন তা ইতিহাসে অবিস্মরণীয় হয়ে রয়েছে। এসব মাদরাসা থেকে হাজার হাজার আলিমে দ্বীন বের হয়ে বিশ্বব্যাপী ইসলামের বহুবিদ খেদমত করে যাচ্ছেন। হাফেজ্জী হুজুর (রহ) সেই আদর্শ তথা দীন কায়েমের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায়  আত্মনিয়োগ করেছিলেন। তিনি ছিলেন বহু গুণ ও অসামান্য প্রতিভার অধিকারী। তিনি সবসময় উম্মাহকে নিয়ে চিন্তা করতেন। দেশ ও জাতির মুক্তির পথ রচনায় নিমগ্ন থাকতেন। এদেশে তার মতো মহৎপ্রাণ ব্যক্তিত্ব বিরল। তিনি মনে করতেন, আত্মশুদ্ধি তথা ব্যক্তি চরিত্র সংশোধন করতে পারলে ব্যক্তির দ্বারাই একদিন সমাজ ও রাষ্ট্র ভালো হবে। তার জীবনের প্রতিটি দিক ও বিভাগ আমাদের জন্য অনুসরণীয়। এর মধ্যে কিছু কিছু দিক আছে যা আমাদের জন্য অনন্য পাথেয়। যার দীপ্তি আমাদেরকে বিস্মিত ও বিমুগ্ধ করে যুগ যুগ ধরে। তাই তিনি আমাদের জীবন্তআদর্শ। হাফেজ্জী হুজুর বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি ১৯৮১ ও ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৮১ সালের নির্বাচনে ১.৭৯% ভোট পেয়ে তৃতীয় এবং ১৯৮৬ সালে ৫.৬৯% ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থান লাভ করেন। তওবার রাজনীতির প্রবতর্ক মাওলানা মুহাম্মাদুল্লাহ হাফেজ্জী হুজুর (রহ) ই এদেশে রাজনীতিতে সংস্কারের ডাক দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, যেই ভোটের মাধ্যমে দুর্নীতিবাজ ও অসৎ লোকদের ক্ষমতায় পাঠানো হচ্ছে, সেই ভোটের মাধ্যমেই যোগ্য, সৎ ও আল্লাহ ওয়ালা মানুষদের নির্বাচিত করে ক্ষমতায় পাঠাতে হবে। তাদেরকে দেশ চালানোর দায়িত্ব দিতে হবে। তাহলেই সুখী সমৃদ্ধ সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠিত হবে। হাফেজ্জী হুজুর (রহ) বলতেন, ইসলামের নামে অর্জিত স্বাধীন এদেশে ইসলামী হুকুমত না থাকায় সবচেয়ে বড় অনিয়ম হচ্ছে। জান-মাল ঈমান ইজ্জতের ওপর জুলুম চলছে। শাসকেরা শোষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। রক্ষক আজ ভক্ষক সেজেছে। ইনসাফের আদালত জুলুমের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, এ জামানায় সবচেয়ে বড় হচ্ছে ভোটের গুনাহ। কারণ, ভোটের দ্বারা অধর্ম ও অধার্মিককে ক্ষমতায় বসানো হচ্ছে। তারা ক্ষমতায় গিয়ে মহান আল্লাহ এবং তাঁর বান্দাদের হক নষ্ট করছে। এতে করে ভোটদাতা জনগণ গুনাহের অংশীদার হচ্ছেন। তাই দুনিয়া আখেরাত ধ্বংসকারী এই ভোটের গুনাহ থেকে পরিত্রাণের লক্ষ্যে দেশবাসীকে তওবার আহবান জানিয়ে হাফেজ্জী হুজুর (রহ) বলেন, তওবার উসূল-বা বিধান হচ্ছে, যেমন গোনাহ তেমন তওবা, ভোট দিয়ে গুনাহ করা হয়েছিল। তাই ভোট দিয়েই তার তওবা করতে হবে। এতদিন অপাত্রে ভোট দিয়ে যে গুনাহ করা হয়েছে, এবার ইসলামী হুকুমত কায়েমের উদ্দেশ্যে সুপাত্রে ভোট দিয়ে ভোটের তওবা সম্পন্ন করতে হবে। মূলত গায়রুল্লাহর প্রবর্তিত প্রতারণার রাজনীতি থেকে মহান আল্লাহ প্রবর্তিত সততার রাজনীতিতে ফিরে আসার নামই হচ্ছে তার তওবার রাজনীতি।রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেয়ার সময় সারাদেশে যে অভূতপূর্ব গণজাগরণ সৃষ্টি হয়েছিল, তার রেজাল্ট আজকের বাংলাদেশের আলেম-উলামা ও দ্বীনদার শ্রেণীর মানুষের নেতৃত্বের পথকে সুগম করেছে। হাফেজ্জী হুজুর (রহ) তার আন্দোলনের মাঝে এদেশবাসীর হৃদয়ে অমর হয়ে থাকবেন। তার পক্ষে এবং বিপক্ষে ব্যাপক প্রচার প্রোপাগান্ডা চালানো হলেও পরে মূল বিষয়টি প্রকাশ পায় যে, তিনি একজন মহান আল্লাহর ওলি। ইলহামের মাধ্যমেই তিনি এ কাজে অগ্রসর হয়েছিলেন। বাংলাদেশে একটি পূর্ণাঙ্গ ইসলামী বিপ্লব কায়েমের লক্ষ্যে ১৯৮১ সালের ২৯ নবেম্বর হযরত হাফেজ্জী হুজুর (রহ) বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন গঠন করেন। হযরত হাফেজ্জী হুজুর (রহ) বলেন, খোলাফায়ে রাশেদার আলোকে আমরা মদীনার ইসলাম চাই। খেলাফতই হচ্ছে মুসলমানদের ঐক্যের প্রতীক। খেলাফতই হচ্ছে ইসলামী হুকুমতের বাস্তাব নমুনা। তিনি আরো বলেন, মুক্তির একটাই পথ ইসলামী হুকুমত। ইসলামী হুকুমতের একটাই পথ কেন্দ্রীয় সালাহিয়াত বা নির্ভরযোগ্য নেতৃত্ব। খোলাফায়ে রাশেদার অনুকরণে খেলাফত পদ্ধতির শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য হাফেজ্জী হুজুর (রহ) এর নেতৃত্ব ও কর্মধারা ছিল সহীহ আন্দোলনের মাইলফলক। সুন্নাতে নববীর মূর্ত প্রতীক হাফেজ্জী হুজুর (রহ) এর কাছে ক্ষমতার মোহ ছিল না। তিনি প্রচলিত ধোঁকা ও প্রতারণার রাজনীতিতে ভেসে যাননি। তিনি নীতি ও আদর্শের প্রশ্নে কোনো আপস করেননি। প্রচলিত রাজনীতির সাথে তাল মিলিয়ে কখনোই ইসলামী আদর্শ, নিয়মনীতি ও শরীয়তের বিধানকে জলাঞ্জলি দেননি।শত শত মাইলের পথ একটানা সফর ও সভা-সমাবেশ করার পরও তার নফল ইবাদত, জিকির-আজকার ও নিয়মিত আমলে কোনো কমতি ঘটেনি। সফরসঙ্গীরা যখন ক্লান্তহয়ে বিশ্রাম নিতেন, তখনো তিনি জায়নামাজে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায়ে লেগে যেতেন। দীর্ঘ সময় পর্যন্ততিনি তাহাজ্জুদ নামায পড়তেন। ফজর নামাযের জন্য সফর সঙ্গীদের ডেকে তুলতেন। তাঁর সালাত ও ইবাদত আমাদের জন্য আদর্শ। তিনি আজীবন কম কথা ও বেশি জিকির, তেলাওয়াত ও ইবাদত করতেন। সংযম ও বিনয়ী তাঁর চরিত্রের বৈশিষ্ট্য ছিল। তাঁর জীবন অবিচলভাবে নির্ভীক চিত্তে দ্বীনের রাস্তায় পথ চলার সাহস এবং ইসলাম, দেশ ও জাতির খেদমতে আত্মত্যাগ করার অনুপ্রেরণা জোগায়। হাফেজ্জী হুজুর (রহ) এর বৈশিষ্ট্যগুলোর অনুসরণ করলে জাতি লাভবান হবে। বর্তমান ক্রান্তিলগ্নে জাতি হযরত হাফেজ্জী হুজুর (রহ) এর মতো সৎ, নির্লোভ ও মহান আল্লাহ ওয়ালা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করছে। দুর্ভাগ্য, জাতির সামনে আজ তার মতো কোনো রাজনীতিক নেই।হাফেজ্জী হুজুর (রহ) তাঁর স্বপ্নের বাস্তাবায়ন দেখে যেতে পারেননি। অতএব তাঁর অনুসারীদের কাজ হলো, হাফেজ্জী হুজুরের রেখে যাওয়া অসমাপ্ত কাজগুলো সমাপ্ত করার লক্ষ্যে চেষ্টা করা। তাহলেই হাফেজ্জী হুজুরের আত্মা আরো বেশি সুখী ও খুশি হবে। হাফেজ্জী হুজুর (রহ.) ১৯৮৭ সালের ৭ মে ইন্তিকাল করেন। হাইকোর্টসংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। ইমামতি করেন হাফেজ্জী হুজুর (রহ.) এর জ্যেষ্ঠ পুত্র কারী শাহ আহমদুল্লাহ আশরাফ। জানাজায় দেশের বিভিন্ন স্থান ও অঞ্চল থেকে হাজার হাজার শোকার্ত জনতা অংশগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সমাজের সব মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার পাত্র। যা এ যুগে খুবই বিরল। ঢাকার সাবেক মেয়র মরহুম মোহাম্মদ হানিফ উদ্যোগী হয়ে নগর ভবন সংলগ্ন ফিনিক্স রোডের নাম পরিবর্তন করে নতুন নামকরণ করেন, মওলানা মুহাম্মদুল্লাহ হাফেজ্জী হুজুর (রহ.) রোড। মহান আল্লাহ তার কবরকে জান্নাতের বাগানে পরিণত করুন। আমীন।

লেখকঃ প্রভাষক, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ,আতাকরা কলেজ, কুমিল্লা।

 

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2020